Saturday, January 24, 2015

সেবার মাঘের শেষে জঙ্গলের বুকে ঝুপ করে
যখন সন্ধ্যা নামল,শাল-পিয়ালের সারি
আচমকা ছুঁতে চাইল আকাশের চকমকে চাদোঁয়াটা
অদূরে কোনো নাম না জানা নদীর
নুড়ি পাথরের সাথে আবাল্য খুনসুটিতে বুঁদ আমরা
শীতের মিশমিশে চাদর জড়িয়ে 
মনখারাপের সব দরজা বন্ধ করে
গুটিকয়েক মিলে জ্বেলেছিলাম  ছদ্মবেশী আগুনI

অরুণ বরুণ কিরণমালারা মেতেছিল মহুয়াতে
লাল হলুদে মুখগুলো জলছবি একেঁছিল আবছায়া
বনমালী এককোনাতে নুন লঙ্কা নিয়ে
রসনাবিলাস ফরমাসে মশগুল,
কি ভাষা তার কেউ কি জেনেছিল?

আর তুই বলেছিলি দিক্শূণ্যপুরের কথা , 
পাহাড়ের হাতছানিতে একলা হওয়ার কথা।
কবিতার কথা,কবির কথা।
সব বুঝেছিলাম এমনতো কখনো নয়....
তবু গীটারের তারে যখন বাঁধলি  অবোধ মন
দৃষ্টিবন্দী করলি দিগন্তটাকে নিমেষে
তোর প্রিয় ভিনদেশী তারাদের মুঠো ভরে
এনে জমা করলি আমার অভিমানের ঝাঁপিতে....
একএক করে, যত্নে

তখন ভালোবেসেছিলাম
আমার খোলা চুলের পৃথিবী
আমার অবহেলার ,খামখেয়ালি ,ভুলত্রুটিময় পৃথিবী
 আমার পেঁয়াজরঙা পৃথিবী।


---- A bonfire.And we loved.

Tuesday, January 6, 2015

তোমার কাঁমড়ে আমার যে রক্তক্ষরণ
সংক্রমণ হয়ে তোমাকেও করবে গ্রাস
কচি রক্তে উৎসব করো তুমি
তোমার জন্য প্রতীক্ষা করে ঈশ্বরের পরিহাস
শেষের সেদিন শিয়রে দাঁড়িয়ে
আগলে তুমি পঁচা গলা বিছানা
ধর্ম তোমায় ব্যঙ্গ করবে
মৃত্যু করবে ঘৃণা I

Sunday, January 4, 2015

তাকে ধরে আনা হয়েছিল ম্যানগ্রোভ এর
জমিতে মাথা বার করে ,ভিজে চুপচুপে
শিকড়ের নোনতা বন থেকে।
যেখানে নদীটা নিজেকে উৎসগর্ করেছে সাগরে
টেনে হিচড়ে ,ঘেটি ধরে 
গলায় তেতো রস ঢেলে 
হাতে পায়ে শিকল পড়িয়ে
স্থাপন করা হয়েছিল তাকে
চার দেওয়াল এর নিয়মে।
বন্য থেকে না-বন্যে
অসভ্য থেকে সভ্যে
অস্বাভাবিক থেকে স্বাভাবিকতায়।
গায়ে তার হারভাঙা ব্যথা,
 এখনো যায়নি প্রতিরোধের চেষ্টায়
গলায় চিড়ে যাওয়ার খচ্খচানি।
কিছুটা মলম দিয়েছে সময়
কিছুটা পেটের খিদে, কিছুটা বাঁচার তাগিদে
পোষ মেনেছে সেও।
নানারকম কসরত আর খুশি করার খেলায়
তালিম হয়েছে তার
মনিব খুশি, সে ও মন্দ নেই
বরাদ্দ খাবার আর বাহবা কুড়িয়ে কাটে ভালো।

শুধু জলের দিকে তাকায় না অথবা আয়না দেখলে
এড়িয়ে চলে সে
পাছে সে দেখে ফেলে
চোখ দুটো তার এখনো আদিমের কথা বলে
পাছে সে শুনতে পায় 
ম্যানগ্রোভ এর ফাঁকে ফাঁকে জালিজালি আলোর আদরে
অন্তহীন উৎসাহে আজও  সাগর ডাকছে।