Monday, May 14, 2018

ভেবেছিলাম পাগল হব

ভেবেছিলাম হাঁটবো অনেকটা পথ....
আলোকবর্ষ ফুরিয়ে গেলেও,
এগিয়ে যাব বলিরেখা ধরে ।
ফুটপাথে হোঁচট খেতে খেতে,
নিভে আসা দৃষ্টির আলস্য শাসন করে,
পায়ে পায়ে কালপুরুষের
বিদ্রুপ করব ছাড়খার ।
ঝলসে যাবে চামড়া
তীব্র প্রতিরোধে, ঘামে ভিজে যাওয়া
ধুলোয় ছাপ রেখে যাবো পথিক আমার ॥

ভেবেছিলাম নিঃশর্ত ভালোবাসব....
শিশির হয়ে ভোরে উঁকি দেব,
তোমার বাগানের আগোছালো ঘাসে ।
অভাবের  রাতের জানলায়,
নরম কাপড়ের আদরে,
জড়িয়ে থাকব তোমায়
বিষাদে বিলাপে , বিনা পরিচয়ে ।
তোমার নামে লিখব চিঠি
যেমন যত্নে বিকেল নামে রোজ, না যদি পড় তবুও ....
অলক্ষ্যে চিলেকোঠায় বেঁচে থাকব প্রেমিক আমি ॥

ভেবেছিলাম ব্ৃষ্টি ভিজব ...
যেমনটা ঠিক আকাশে ভেজে মাঠ ।
‍ভেবেছিলাম  ফেরি করব তারা ,
যেন কোনোদিন একলা না জাগে কেউ ।
ভেবেছিলাম ...
ভেবেছিলাম ...একদিন পাগল হব ঠিক
রূপকথার কাব্যে নায়কের মত
কেটে যাবে দিন স্বাধীন আমার ॥

Sunday, March 25, 2018

তুমি কি ভুলে গেছো...

তুমি কি ভুলে গেছো...
কবিতায় আকাশ দেখার পালা শেষ
এবার ভাত বসাতে হবে
সাদামাটা চচ্চড়ি নিয়ে পাত পেড়ে আমি অপেক্ষায় ।
কই এসো..অনেক রাত হলো
তুমি কি ভুলে গেছো ?
এটুকু বিলাসিতা আমারো মনের চাই ॥

তুমি কি ভুলে গেছো...
আমাদের নীল স্বপ্নের কথা
তুমি  দুটো পাখি আঁকবে বলেছিলে
পর্দার রঙ জানলায় ফাগুন সবই বোনা আছে ।
কই ওঠো.. কটা বছর চেখে দেখব একসাথে
তুমি কি ভুলে গেছো ?
ভালো বাঁচার ইচ্ছা আমারো খুব হয় ॥

তুমি কি ভুলে গেছো...
বয়স বেড়েছে আজকাল
এখন একটা ছাতা  হাতে থাকলে ভালো
ইজিচেয়ারে অলস সন্ধ্যা কাটাবো পাশাপাশি ॥
কি হলো ...শীত যে এসে কড়া নাড়ে দোড়গড়ায়
তুমি কি ভুলে গেছো ?
এটাই আমার বেলাশেষের উপহার ছিল ॥

Saturday, March 10, 2018

যে মেয়েটা মেঘের সাথে কথা বলতে
ছুট্টে যেত ছাতে
দুপুর বেলার উঠোনটা যার
মনখারেপের আঁকিবুকির খাতা
ফাগুন সন্ধে বাতাসে সে
একলা ভিজত চিলেকোঠার ঘরে
তার এলোপাথারি স্বপ্নে ঝুলবারান্দার রঙমিলন্তি
কাগজি ফুলের সাথে
সেই মেয়ের ঘুম ভেঙে ফেলে আসা জন্মের
লাল সাদা স্কুলছুট  জামাটা
জানো কি কোথায়?

যে মেয়েটার চাল ছিল না চুলো ছিল না
সাজগোজের ছিলনা কোনো বালাই
হাতে পায় খড়খড়ি তার
চুল গভীর রাতের অলিগলির নেশা
উদলো মাঠের কোলে মাথা রেখে
সে মেয়ের আবদার গলে পরা আকাশের বুকে
পথচলতি নুড়িপাথরের দল অবলীলায় লিখেছে
যার মুঠোভরা সুখ দুখের কথা
সেই মেয়ের ..সেই মেয়ের
ছায়াপথে হারিয়ে যাওয়া
লাগামছাড়া সন্ধ্যাতারার খোঁজ
আছে কি তোমার কাছে?

যে মেয়ের রক্তে মিশে যেত নীল
দাবানল হয়ে দাপিয়ে ফিরত শিরায় শিরায়
একবুক জলে সে ঠায় অপেক্ষায়
এখনো না জানি কোন আগাম খরার দায় বয়ে
যার কপাল চুঁয়ে বিন্দু বিন্দু মহাকাল
আজীবন ঝরে পরে, নিঃশব্দে নিরাকারে
দৃষ্টি তার বহু সময় পার করে নিষ্পলক
সভ্যতা নামে শহরে আর নিষ্ঠুর ধরা দেয়
অক্লেশে তার শরীরে.....
সেই মেয়ের পাথর চোখে একচিলতে সবুজ হয়ে
সেই মেয়ের  বৃষ্টিস্নানের সোহাগী গন্ধ হয়ে
এলে কি তুমি তার নতুন আবিষ্কারে
তার নতুন প্রেম হয়ে?

Sunday, March 4, 2018

আমি দাঁড়িয়ে থাকব সমুদ্রের গায়ে
তুমি সময় করে এসো
তোমার দুনিয়াদারি সেরে
তোমার পিছুটান ছিড়ে
যা কিছু দোটানা
যা কিছু সংশয়
যা কিছু গোছানো হারিয়ে ফেলার ভয়
সব হিসাবের খাতা মিটিয়ে তুমি এসো॥

আমরা এলোমেলো সময় কাটাব
বেখেয়ালে বিলি কাটব ঢেউয়ে
দামাল হাওয়ায় শিউরে উঠবে রোম
যতদূর চোখ যায় পায়ে পায়ে পৌঁছে যাব
যেমনটা ঠিক গল্পে লেখা হয়
যদি ছুঁতে পারি দিগন্তরেখা
যদি খূঁজে পাই সন্ধাতারার বাড়ি
যদি পরিযায়ী বন্ধু পাই কোনো
কথা চালাচালি করব দু এক পশলা
বালিতে গেঁথে যাওয়া আমাদের দুজোরা পাতা
গলা জড়াজড়ি করবে সোহাগে
যদি দেখা পাই দু্রে ...ওই দুরে জাহাজের মাস্তুল
অভিমানে আমি ভাঙব না তোমার কোনো ভুল
যদি এভাবেই খেলার ছলে ঘুম নেমে আসে চোখে
তোমার পাশে থেকে, 
তোমার মেঘলা গন্ধ মেখে ॥

এই আছিলায় আজও
আমি দাঁড়িয়ে থাকব সমুদ্রের গায়ে
তুমি সময় করে এসো
তোমার কবিতাগুলি সাথে
তোমার ফাগুন রঙা চোখে॥

Friday, February 23, 2018

একদিন সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে
রাতে আলো থাকবে সব মানুষের ঘরে
বসন্তরা আসবে নিয়ম মেনে
সকালে হাঁটতে যারা যায়
হিসাব মত মেদ ঝরবে তাদের

একদিন সব কিছু সহজ হয়ে যাবে
সম্পর্কের অঙ্কগুলো মিলে যাবে কাটাকুটি ছাড়াই
বাচ্চারা রাস্তা পাড় হবে হাত ধরাধরি করে
মুখ দেখাদেখি বন্ধ ছিল যাদের
এক ছাদের নিচে ভাত খাবে তারা

একদিন এভাবেই নিয়মে ধরা দেবে সব
মিছিল শুধুই হাঁটবে ঢাল বয়ে
গোধুলিতে ফিরবে প্রতিবাদী বাছুর
ঝড়ের শেষে শান্ত মেঘেদের মত
সব মেয়েরা চুল বাঁধবে যেমন তুমি চাও

তবু সেদিনও অকারণে চোখ উতলা হবে তোমার
সেদিনও ফিরতি পথে আকাশে চেয়ে শুণ্য লাগবে বুক
সেদিনও এক পশলা বৃষ্টি যদি  হয়
ওলটপালট হবে উঠোন জোড়া মন
সেদিনও তোমার একলা লাগবে বড়
যতই ভিড়ে ব্যস্ত থাকুক নজরবন্দী সময়

Tuesday, January 2, 2018

যা, যেতে দিলাম তোকে
দুঃখে নয় ,ক্লান্তিতে নয়
নয়  মনের স্ফূর্তিতে ...
হাঁফ ছেড়ে বাঁচার তাগিদেও নয় ।
বহমানের ডাকে যেতে দিলাম তোকে
না ঘুমানো রাতের নালিশে নয় ।

আম‍ার আগোছালো ঘর তেমনই থাকবে ছাপোষা
পরদা যেমন ঝলসানো রঙ, ভালোই আছে.. থাক
দুবেলা আমি  লাল চা খাই...বহুকালের অভ্যেস
ছেলেবেলার ঠান্ডা লাগার সে ধাত টুকুও বদলাবার নয়

যেতে দিলাম তোকে
ছোটবড় আঘাতের দাগ..তোরই দেওয়া ,সে নিয়ে
আজও খেদ আছে , রইবে....তা কি কখনো যায়.. ভালোবেসে যেকটা সন্ধে নিপুণ হাতে আঁকা,
সেটুকু নিয়েই সাধ মিটবে রোজ
কথায় কথায় নাম নিয়েছি তোর
সময় লাগবে, তা শুধরাবো ধীরে ধীরে
গন্ধ যেটুকু রক্তে মিশে গেছে,
স্বভাবে যা গেঁথেছিস যত্ন ভরে ...থাকবে তারা ,
বইয়ের খাঁজে , বালিশের নিচে.. বুকের কাছাকাছি...
শুন্য যেটুকু হল ,তার সঙ্গ গা সয়ে যাবে, দেখবি
তোর মতই  হাসির ছলে সেও কেমন আপন হতে পারে ॥

যেতে দিলাম তোকে, বহমানের ডাকে
হয়তো কোনো নতুন ছায়াপথে ...আগামী শতাব্দীতে
আমারই মত কেউ তোর পথ চেয়ে আছে ॥