Sunday, July 26, 2015

অনেক নীচে নেমেছি
কয়েকধাপ সিড়িতে
কিছুটা টপকে ডিঙিয়ে
চোখ এড়িয়ে আয়নার
লজ্জা ঘেন্না একাকার
অনেক নীচে নেমেছি
হাত ধরে অবমাননার ...

অমৃত পাওয়ার জন্য
রুপোলি চাঁদে ভিজতে
হৃৎপিণ্ডের ধুকপুক
গলার স্বরে জড়াতে
নিজেকে খুঁজতে খুঁজতে
অনেকটা নীচে নেমেছি
পকেটে লুকিয়ে হাহাকার।

Tuesday, July 21, 2015

মেঘে মেঘে অনেক বেলা হল,
পশ্চিমেও ধূসর রঙের মেলা
চোখের পাতা অজান্তে আজ ভারি,
বুকের নিচে চিনচিনে এক ব্যথা।
তোমার আমার যা কিছু মিল ছিল
হঠাৎ সস্তা রোজনামচা লাগে॥

হয়তো তখন বাড়ি ফেরার পথে
কাঁচের ওপর জল জমেছে খানিক,
ডাইনে বায়ে মুছতে গিয়ে তাদের
অযাচিত আসবে তুমি মনে...
"ছাতায় কি আজ মানবে জলের তোড়?"
খানাখন্দ দেখে চলুক গাড়ি...

অভ্যাসেরাও নাছোড়বান্দা বড়
খেলতে খেলতে পসাড় জমায় খাসা।
মনের কাছে খুচরো মূহুতর্রা
নীল মলাটের খাতার পাতায় জমা।
তুমি যদিও বলবে এই তো বেশ
ডালে ভাতে বয়স বাড়ুক তবে॥

দিনের বেলা যুক্তিবাদী সাজি,
রাত বিরেতে অভিমানী বোকা
অমুক বইয়ের তমুক পাতার ফাঁকে
আকাশ পাতাল চিন্তা শিকড় গাড়ে
তুমিও কি আজ জেগেছ কাকভোর?
গোলোকধাঁধাঁয় ইউরেকা খুঁজে খুঁজে॥

একপা দুপা দিনটা কেটে যাবে
মাস পেড়িয়ে বছরে পা দেব।
কাঁচা পাকার উকিঝুকির মাঝে
কপালের ভাঁজ জানান দিয়ে যাবে,
যতদূরেই তখন তুমি থাকো
একই সাথে জরাগ্রস্ত হব॥

Sunday, May 17, 2015

আরও কিছুক্ষণ বাদে 
জাহাজের মাস্তুলটাও চোখের ওপারে চলে যাবে
দিগন্ত ছুঁতে তার দেরী হয়ে গেছে বেশ,
এই আছিলায় দ্রুততর হবে।
তিরে দাড়িয়ে অনেক আগেই
ক্ষুদ্র হতে হতে বিন্দু হয়েছি আমি,
এই বুঝি বালিকণার সাথে মিশে যেতে পারি ।
এরপর দিনশেষ হয়ে রাত আসবে
তবুও তারাদের কাছে জবাবদিহি করব না এই পণ ।
সমুদ্রের ভৎর্সনায় কেঁপে ঊঠেও
আঁকড়ে ধরব তলিয়ে যাওয়া মাটি ।
অস্তিত্বের অনেক প্রশ্নের উত্তর
হয়তো সময়ের মতো ঢেউয়েরা দিয়ে যাবে,
 আর আগাম ঝড়ের পূব্বর্াভাষ অতীতের থেকেও
বেসামাল বিদ্রুপ করবে ঠোঁট উলটে ।
নিজের ছায়ার হাত ধরে আরেকটা ক্লান্ত সকালে,
জেগে ওঠা ঝিনুকের প্রাচূযর্ে, 
সামনের ভরন্ত নীলে জমে থাকা ফসফরাসের আশকারায়
শুরু হবে গুনতি ...আবার প্রথম থেকে॥




Monday, April 13, 2015

আমি বিকেলবেলার চড়ুই হব,
বারান্দায় হইচই।
অনর্গল কিচিরমিচির,
হব একলা মনের সই॥

আমি চায়ের কাপে চুমুক হব,
ঠোঁটের কোনে আঁকা।
ফুরিয়ে গিয়েও ফুরাবো না,
আনকোরা একরোখা॥

আমি নতুন বই এর গন্ধ হব,
না-ঘুম রাতের নেশা।
ছড়িয়ে থাকবো বুকের উপর,
ভালোবাসায় মেশা॥

আমি কাজলরঙা কালো হব,
থাকবো চোখে লেগে।
এক জানালায় দেখব আকাশ,
তোমার সাথে জেগে॥

আর আমি রাগ করে যেই মেঘ হব,
ভাসবো তেপান্তরে।
তখন ডাকবে তুমি মনখারাপে,
হব বৃষ্টি তোমায় ঘিরে॥


Sunday, April 12, 2015

এক বিশাল বড় প্রাচীড় মাথা আকাশ ছুঁইছুঁই
পরগাছা আষ্টেপিষ্টে শ্যাওলা মাখা ভূঁই।
নদীটা ঠিক কোন দিকেতে বলতে পারি নাকো
ইতিঊতি চিহ্ন আছে ভাঙাচোড়া সাঁকো
প্রাচীড় ঘিড়ে পটচিত্র হরেক লোককথা
অকিঞ্চিত প্রাণগুলোকে হিসাবজালে বাঁধা ॥

এমন সময় নাম না জানা ঘূণির্ঝড় এলো
আকাশ কালো , আবছা দৃষ্টি , জীবন এলোমেলো
প্রাচীড় কিন্ত অনড় অটল গোছানো নিয়ম কানুন
ভাঙবে তাকে , এমন স্পর্ধা প্রকৃতিরও বারণ।
মূহুর্তের এই ঊথালপাথাল ,প্রায় সবই এক আছে
কটা মানুষ বদলে গেলো তার গুনতি কার কাছে॥

সেই ঝড়ের রাতেই ধুলোর কুন্ড এসেছিল ধেয়ে
একটা বাঁশি কুড়িয়ে পেলো বনবাদাড়ি মেয়ে ।
কে জানে সে সুরের ডালি কার ছোঁয়াতে বাজে
ভাবছে মেয়ে তখন থেকে ,মন নেইকো কাজে
সেরাত থেকেই ঘুমপাড়ানিয়া বাতাস আসে নাতো
ওপারে সেই জাদুকরটা হারিয়ে গেলো নাতো
দামাল মেয়ে ঠিক করেছে করবে প্রাচীড় পাড়
হায়..আছড়ে গেলো নরম চামড়া এতোই মাটির ধাড়।
দিনরাত এক প্রাচীড় গায়ে কান পেতে থাকে  মেয়ে
সেরাত থেকেই রাত কাটে তার  আকাশ পানে চেয়ে॥

এপারেতে ও খামখেয়ালি ছেলে আনমনেতে বসে
হারাবে কিছু এমনটাতো কখনো ভাবেনি সে,
কি হারালো , কি পালালো কি ছিল সেই ধন
কি এমন জিনিস ইহজাগতিক ভরিয়ে রাখত মন ।
একদুবার প্রাচীড় ছুয়ে শিহরিত হয়েছে সে ও,
দূদর্মনীয় প্বেধেছে বুঝি হারানো ধনের চেয়ে ও।
এরপর হার মেনেছে সে জীবনবোধের কাছে
গন্ডি কাটা অধর্ভূক্ত ভালোবাসায় মেতেছে ॥


এভাবেই  প্রতিটাদিন  দুই পৃথিবী দুই দিশাতে ধায়...
একটা মাটি একটা সূযর্ আর এক আকাশের ছায়॥





Saturday, March 7, 2015

যত ভাবি ঘৃণার কথা লিখব 
ভেঙে গুড়িয়ে ছিন্নভিন্ন করে 
ধ্বংস হওয়ার কথা লিখব
অভিসপ্ত থেকে অভিসপ্ততর পথে
গরম কয়লায় সেচ্ছায় দগ্ধ হওয়ার 
পৈশাচিক তৃপ্তির কথা লিখব
তোমার অস্তিত্ব অস্বীকার করার নিষ্ঠুর
মানসিক বিকৃতির কথা লিখব
অবমাননার গ্লানিতে তিলেতিলে প্রতিদিন
ক্ষয় হতে থাকা নরকের কীটের জীবনী লিখব

কিন্তু......পেরে উঠিনা..আঙুল কাঁপে, 
তীব্র ঘষর্ণে হাত পা ছড়ে যায়।

এরপর জীবনমুখী হতে যতটা মরুভূমি পাড় হতে হয়
তারও কিছুটা সময় পরে
বৃষ্টি নখের ডগা ছুলে...
দিনান্তের কুসুম হাতে মুখে মাখামাখি হলে
এক বিস্তৃত গানের সৃষ্টির বিষ্ময় 
আকুল হয়ে খোঁজার আনন্দে
হৃৎপিন্ডের  পুরোনো প্লাবন এসে
ধাক্কা মারে মননে...সজোরে,প্রাবল্যে
বারংবার বারংবার
তখন পারমানবিক প্রতিটা কণার 
সূযর্ হওয়ার মূহুতর্ে.....কবিতার জন্ম হয়।

Sunday, February 15, 2015

হাজারটা দামাল ঢেউ দুদ্দার বেগে আছড়ে পড়ে
গুড়োগুড়ো হয়ে নিঃশ্বাসে মিশে যাবার পরে,
চামড়া চিড়ে গলে পড়া রক্তে 
মন আর বুকের চাদড় রঙিন হওয়ার পরে,
কোটিকোটি নিউরনের সিড়সিড়ানি বইয়ের পাতা ছেড়ে
দু পায়ের শিরায় ,নখের কোণে কাঁমড়ে ধরার পরে,
পোড়া নিকোটিনের গন্ধে রন্ধ্ররন্ধ্র ভিজে গিয়ে
শ্রাবণ হয়ে চিবুকে নেমে আসার পরে.........
নিঃশ্ব হওয়ার অদ্ভুত সুখে ফিনিক্স হয়ে উড়ে যেতে গিয়ে দেখি....

নিকষ কালো আকাশের চোখে একটাও  তারা নেই।
শুধু কম্পাসে কাঁটা সহজাত এক চাঁদ.....
বাকিটা হয়তো কাল্পনিক।

Saturday, January 24, 2015

সেবার মাঘের শেষে জঙ্গলের বুকে ঝুপ করে
যখন সন্ধ্যা নামল,শাল-পিয়ালের সারি
আচমকা ছুঁতে চাইল আকাশের চকমকে চাদোঁয়াটা
অদূরে কোনো নাম না জানা নদীর
নুড়ি পাথরের সাথে আবাল্য খুনসুটিতে বুঁদ আমরা
শীতের মিশমিশে চাদর জড়িয়ে 
মনখারাপের সব দরজা বন্ধ করে
গুটিকয়েক মিলে জ্বেলেছিলাম  ছদ্মবেশী আগুনI

অরুণ বরুণ কিরণমালারা মেতেছিল মহুয়াতে
লাল হলুদে মুখগুলো জলছবি একেঁছিল আবছায়া
বনমালী এককোনাতে নুন লঙ্কা নিয়ে
রসনাবিলাস ফরমাসে মশগুল,
কি ভাষা তার কেউ কি জেনেছিল?

আর তুই বলেছিলি দিক্শূণ্যপুরের কথা , 
পাহাড়ের হাতছানিতে একলা হওয়ার কথা।
কবিতার কথা,কবির কথা।
সব বুঝেছিলাম এমনতো কখনো নয়....
তবু গীটারের তারে যখন বাঁধলি  অবোধ মন
দৃষ্টিবন্দী করলি দিগন্তটাকে নিমেষে
তোর প্রিয় ভিনদেশী তারাদের মুঠো ভরে
এনে জমা করলি আমার অভিমানের ঝাঁপিতে....
একএক করে, যত্নে

তখন ভালোবেসেছিলাম
আমার খোলা চুলের পৃথিবী
আমার অবহেলার ,খামখেয়ালি ,ভুলত্রুটিময় পৃথিবী
 আমার পেঁয়াজরঙা পৃথিবী।


---- A bonfire.And we loved.

Tuesday, January 6, 2015

তোমার কাঁমড়ে আমার যে রক্তক্ষরণ
সংক্রমণ হয়ে তোমাকেও করবে গ্রাস
কচি রক্তে উৎসব করো তুমি
তোমার জন্য প্রতীক্ষা করে ঈশ্বরের পরিহাস
শেষের সেদিন শিয়রে দাঁড়িয়ে
আগলে তুমি পঁচা গলা বিছানা
ধর্ম তোমায় ব্যঙ্গ করবে
মৃত্যু করবে ঘৃণা I

Sunday, January 4, 2015

তাকে ধরে আনা হয়েছিল ম্যানগ্রোভ এর
জমিতে মাথা বার করে ,ভিজে চুপচুপে
শিকড়ের নোনতা বন থেকে।
যেখানে নদীটা নিজেকে উৎসগর্ করেছে সাগরে
টেনে হিচড়ে ,ঘেটি ধরে 
গলায় তেতো রস ঢেলে 
হাতে পায়ে শিকল পড়িয়ে
স্থাপন করা হয়েছিল তাকে
চার দেওয়াল এর নিয়মে।
বন্য থেকে না-বন্যে
অসভ্য থেকে সভ্যে
অস্বাভাবিক থেকে স্বাভাবিকতায়।
গায়ে তার হারভাঙা ব্যথা,
 এখনো যায়নি প্রতিরোধের চেষ্টায়
গলায় চিড়ে যাওয়ার খচ্খচানি।
কিছুটা মলম দিয়েছে সময়
কিছুটা পেটের খিদে, কিছুটা বাঁচার তাগিদে
পোষ মেনেছে সেও।
নানারকম কসরত আর খুশি করার খেলায়
তালিম হয়েছে তার
মনিব খুশি, সে ও মন্দ নেই
বরাদ্দ খাবার আর বাহবা কুড়িয়ে কাটে ভালো।

শুধু জলের দিকে তাকায় না অথবা আয়না দেখলে
এড়িয়ে চলে সে
পাছে সে দেখে ফেলে
চোখ দুটো তার এখনো আদিমের কথা বলে
পাছে সে শুনতে পায় 
ম্যানগ্রোভ এর ফাঁকে ফাঁকে জালিজালি আলোর আদরে
অন্তহীন উৎসাহে আজও  সাগর ডাকছে।