Sunday, August 21, 2016

প্রতিদিন ভেঙে চলেছি বিশ্বাস
তোমার..তোমার ..তোমার
আর ...তোমারও
যে খোলসটা ছেড়ে রেখে এসেছি
রঙ মাখিয়ে সুগন্ধে ভিজিয়ে
তার সাথেই তুমি বেমালুম
হাসছ..
ভালোবাসছ
রাগ করছ..
বন্ধুত্ব পাতিয়েছ
আর সম্পূর্ণ বোকা বনে গিয়ে
তাকেই তীব্র ঘৃণা করছ
মোটের উপর তার সাথেই সাবলীল
তুমি বরাবর
পাশে রক্তমাংসের শরীরটা
প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে
নির্জীব হয়ে পরে আছে...
অতিরিক্ত নেশাভান করে
স্নায়ুগুলো নিস্তেজ
কোন গন্ধে তুমি মোহিত হলে
কোন রঙেই বা  ধাঁধাঁ লাগল চোখে
...সে হদিস তার নেই ||


প্রতিদিন ভেঙে চলেছি বিশ্বাস
তোমার..তোমার ..তোমার
আর ...নিজেরও ||

Sunday, August 7, 2016

নীলের সাথে দেখা হয়েছিল
বছর দেড়েক আগে
গতানুগতিক মুখোশের ভিড়ে
পাউডার মাখা মুখের দলে
অনেকটা সাদামাঠা
তবুও অন্যরকম ..
ঠিক যেন স্যাতস্যাতে ঘরে
ঝলমলে রোদ আসা জানলার মত

নীলের চোখে ছিল মস্ত এক ঝিল
যেখানে স্বচ্ছ জল টলমল করত
মনে হত সব ভুলে ডুবে যাই
গভীরে আরও গভীরে
নীল আর আমি গল্প করে
হেঁটেছি অনেক সন্ধে
ছূঁয়েছি মেঘ ,চুরি করেছি
তারাদের একচেটিয়া রাত

নীল ছিল বৃষ্টির মত, যার বাষ্পে
ভিজতে ভিষণ ইচ্ছে হত
কখনো কাঁচের ওপারে
বারান্দায় নাগালের বাইরে
কখনো শৈত্যের শিহরণে
সকালের ছাদে একলা
কখনো অকারণে.. এমনি
প্রতিদিনের তৃপ্তিতে..অস্বস্তিতে...


নীল যাবার আগে
বলেছিল চল্লাম..আমার পালা শেষ
মুঠো ভরে  দিয়ে গেছিল ..মনখারাপ
ভয়ে ভয়ে প্রাণপনে
এটে রেখেছি তাকে,
পাছে এটুকুও নিমেষে উবে যায়..
বলা হয়নি...
সেই মনখারাপের রঙ ছিল নীল
তোমাকে খূঁজে
কেটেছে  বছর মাস...
ছোটবেলা পেরিয়ে ,
কলেজের সিড়ি ..
অগুন্তি বইমেলা
একে একে দশক ...
নেহাতই পলকে...
 চেনা শহরে খূঁজেছি তোমাকে
লেপে থাকা ক্লান্তির ভিড়ে 
খূ্ঁজেছি ছুটে যাওয়া সময়ের
ক্রোশ ক্রোশ পিছিয়ে পড়া গল্পে |
যেখানে বোঝাপড়া নেই
এমনি বুভূক্ষু যন্ত্রের দলে
খূঁজেছি মানুষের ঘরে..
মানুষের মনে..

এরপরও পাহাড়ের খাঁজে
স্বপ্নের মত মেঘ
জড়িয়েছে আমায়
ঢেউ এসে  বারবার
চেয়েছে ভালোবাসা
ভোরের প্রথম নিটল রোদ
ছুঁয়েছে নিজের মত করে..যত্নে
কখনো ঝড়া পাতা বারান্দায়
লিখেছে আমার রোজনামচা


সেই বাস্পের ঘনত্বে
লুকানো ঝিনুকের খোলে
সেই পেলব ভালোলাগায়
ভাঙতে থাকা হৃৎপিণ্ডের মোচরে
তখনও... আমি খূঁজেছি তোমায় ||

Sunday, June 12, 2016



তোমার জন্য কোনো
নাম ভাবা হয়নি
তুমি বয়ে গেছো
অবলীলায় মিশে গেছো
শ্বেতকনিকায় ভেসে ভেসে
ছুঁয়েছো আমার জিন
রোমকুপের প্রতি শিহরণে
তুমি প্রকাশ হয়েছ বারবার
যেসব তারারা কানে কানে
কথা বলে
তাদের ভাষার জবানি হয়ে
তুমি জেগেছ আমার রাত
তুমি ঘটেছ
অপরিসীম স্বাভাবিকতায়
রাগে দুঃখে অভিমানে
আনন্দে আলাপে
চোখের কোনে আড়াল টেনে
তুমি জ্বলেছ, তুমি নিভেছ ||

তবু তোমার নাম রাখা হয়নি
তোমার জন্য ভাবা হয়নি নাম||

Wednesday, June 8, 2016

ভাবতে পারো
সেদিন..যেদিন পৃথিবীর সবাই
আরেক পৃথিবীতে পাড়ি দিল
গল্পের নায়ক নায়িকারা
ওপাড়ার বাবলুদা
পাশের বাড়ির কাকিমা
মেজো পিসি...
কলেজের ভালো নাচতে পারতো
যে ছেলেটা..সে... আরও অনেকে
বাক্স পেটরা
মাথার তেল
দামী গাড়ি
মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট গুছিয়ে
রওয়ানা হল নতুন গ্রহে
বিশুদ্ধ সবকিছুর খোঁজে

দুপ্রান্তে পরে ছিলাম
শুধু আমি এবং তুমি
একসাথে বাড়ি ফেরার রাস্তাটা
পথ আগলে দাঁড়াল আমার
বাদামের খোসায় উড়তে থাকা
কবিতাদের ধাওয়া করেছি
তখনও....
আর তুমি..
ও দুনিয়ায় বৃষ্টি হয়না বলে
বাতিল করেছ শেষ টিকিটটাও
তোমার জামার কলারের ময়লা
হ্যাঙারে ঝুলছে চুপচাপ

অথচ সেদিনও আমরা
দুজনে দুজনকে খূঁজে পাইনি
হাত ধরতে গেলেও মাঝের জল
বেড়ে গেছে...বেড়েই গেছে ক্রমশ
দুজনেই অজান্তে
অপেক্ষা করেছি
ভেসে যাওয়ার||

Sunday, June 5, 2016



দেখো আমার শহর বৃষ্টি ভিজে
নায়িকাসুলভ খোলা চুলে
বিন্দু বিন্দু অভিমানে
টুপটুপিয়ে পড়ছে ঝরে
কৃষ্ণচূড়ার চোখের কোনে

চিনতে তুমি নাইবা পারো
ভান করো সব ভুলে গেছো
মুখ ফিরিয়ে মেঘলা মনের
কিতকিত আর ইকির মিকির
কোন ঠিকানায় আছো পরে

অদলবদল যতই ঘটুক,
লাল হলুদের মাখামাখি...
কলেজ ফেরত ট্রামলাইনে
তোমার আমার উড়তে শেখার
গল্পগুচ্ছ একলা তাকে সময় গোনে

দেখো এই বিকেলে তোমার শহর
শ্যাওলা গায়ে উড়ালপুলে
বৃদ্ধ সেতুর সঙ্গদোষে নেশায় মাতে
ফিরতে পথে স্টেশন পাড়া চায়ের ভাঁড়ে
আজও কেমন ঘরের ছেলের আদল খোঁজে ||


যত রাত  জেগেছ তুমি
চার দেওয়ালে এক্কা দোক্কা খেলে
চোখের তলায় কালো সুড়ঙ্গে
মিশেছ ঘুম-ভাগা দের দলে

তারা-রা তখন মুখ ভার করে
খসেছে তোমার উস্কোখুস্কো বুকে
প্রতিবার তুমি চেয়েছ মুক্তি
পথ বদলে মন ডুবেছে গভীর অসুখে ||

Thursday, June 2, 2016



আজ ফাঁকা খেলার মাঠে
গোলপোষ্ট দুটো অসহায়,
ঠাঠা রোদে ক্লান্ত নির্বাক
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তারা |
মাঝের সমান্তরাল শুণ্য
বুঝি সত্যি বড় বেশী |
ইস্কুলে বড়দিদিমণির টহলদারির
ছিল নিঃশব্দ বিশ্রাম |
সাদা কালোর মহাযুদ্ধে
শৈশবের অঙ্ক ক্লাসের আজ ছুটি
টালির ছাদ তাই একাই পুড়ছে
রঙের তোয়াক্কা সে করেনা |
কলপাড়ের শ্যাওলার তেষ্টা
বড় অভিমানী, ছেলেমানুষি জেদ |
উনিশ-কুড়ির মা, লিকপিকে ছেলে তার
নাওয়া খাওয়া কখন যে সারবে আজ...
দাড়কাকের সঙ্গে একঘেয়েমি চোখে চোখ
সজনে ডালে বসে ফিকে হাসে |
এসবই মনগড়নের ছবি
জানলায় বসে আঁকা |
বাড়ির কোনের অশ্বত্থ আর আমি
যখন পরস্পরের দুপুর গুলো বুনি...
আলগা লেগে থাকা পাতা ঝরে পরে,
শরীর বেয়ে একাকী ,অননুভূত আদরের মত |




-14 Mar, 2016


একটু একটু করে
আধলা মুঠো ভরে
মাসকাবারি প্রেমে
জীবন বন্দী ফ্রেমে

চিলতে ওঠা রঙ
পরিপাটির ঢঙ
বাগযুদ্ধের মাঠ
নীরব সাক্ষী চৌকাঠ

হিসাবকষার খাতা
পাওনা মাথাব্যাথা
আড়ষ্ট যোগফল
বলে.."ক্ষমা করো ,আমি দুর্বল"

নয় ঘন্টার খেলা
আমি গুরু তুই চেলা
যতই গোছাও স্বরবর্ণ
এ নাটকে তুমিই হবে কর্ণ

করুণ দুটি মুখ
ভাবছে কিনে দেবে তোকে সুখ
পাক ধরেছে বুকে
এই মরীচিকায় ধুকে ধুকে

তবু আশায় মড়ে চাষা
তার নাছোড়বান্দা নেশা
গলায় গেঁথে নীল
সে আজও খোঁজে অন্তেমিল



-22 Feb, 2016


কখনো সমুদ্রের অতলে তলিয়ে যেতে যেতে
ঘনঘন বিফল প্রতিরোধে অসহায় মাথা নাড়িয়ে
যখন ক্লান্ত..
মাঝরাতের না ঘুমানো কুকু্রটার চিতকার
ডুবুরির হাতে ডাঙায় তুলে এনেছে আমায়
হাত ঘড়িতে দেখি একটা সময় ঘুরে চলেছে
চিরাচরিত, অবিকল আগের দিন মত ....

কখনো অপেক্ষারা সঙ্গ দিতে চায়না
কম্পাসটা লুকিয়ে রেখে বলে...
"যাও নিজের দিন গুজরান করে নাও..."
মনে পরে উস্কোখুস্কো ময়লা জামার পাগলিটা
কি যেনো খুজে চলেছে তন্নতন্ন করে..সেদিনও তাই
দেওয়ালের খুব কাছাকাছি এসে দিক বদলাই
চিরাচরিত, অবিকল আগের দিন মত ....

Friday, May 27, 2016

সবকিছু অর্থহীন হওয়ার আগে
তুমি একবার নাম ধরে ডেকো
আমরা পরস্পরের ভালোমন্দের
খবর নেবো
হয়তো  উচ্ছসিত হব
বা হব না
নিজেদের দিন খরচের এলোমেলো
পাট ভাঙবো
হয়তো বা কাঁদবো 
অথবা হাসবো মিলিয়েমিশিয়ে
আবারও কিছু অসমাপ্ত গল্পের  ঋণ
বর্তাবে তোমাতে আমাতে 
যার দায়ভার অদ্ভূত ভালোলাগা 
এনে দেবে অজান্তে


এভাবেই সামনের জলজ্যান্ত
ট্রাম বাস রাস্তা ফোয়ারা 
ঝুলবারান্দা সকালের জলখাবার
বেলুনওয়ালারা
ধূসর হতে হতে আগের মত
নিরর্থক হতে চাইবে
তার আগে তুমি ফের নাম ধরে
আমায় পিছু ডেকো

Thursday, May 19, 2016

এ আমার সন্ধেবেলার গল্প
দূরে অনেক দূরে কাসর ঘন্টার মৃতপ্রায় তান
ব্যস্ত শহরের ডেসিবেলের চোখরাঙানির ফাঁকে
এক পশলা জানলায় উঁকি দিয়ে গেলো
জানিনা কেনো আজ..লালপেড়ে সাদা শাড়ির পাটে
আটপৌড়ে ছিমছাম খুব চেনা এক মুখ ভেসে আসে
যাকে জড়িয়ে ধরে একদিন ,পৃথিবীর সব প্রশ্নের ঋণ
মুক্ত হয়েছি জিয়ন কাঠির ছোঁয়ার মত...

এ কোনো এক ফাগুনে সন্ধের গল্প
লোডশেডিং এ পড়তে বসে মন,হ্যারিকেনে ব্যকরণ
ঝিরঝিরে বাতাসেরা নারকেলি পাতার 
অলিগলি ভেদ করে .লেপ্টে পরলো গায়ে
নিজের কাছে নিজেরই সেদিন প্রথম আবদার
নটরাজের শিসে..দিস্তা খাতার বুকে অর্নগল
বসন্ত এসে কানে প্রথম প্রেমের মানে...যা বলেছিল সব..

আর আছে এক বাউল সন্ধের গান
যে মরমী হওয়ার কথা দিয়েও,বেরিয়েছিল
খোয়াই পথে একলা সুখের খোঁজে
যে শুকতারার স্বপ্ন মুঠোয় নিয়ে ফিরতো আমার ঘুমে,
চোখের সামনে প্রতিদিন সে অবাক নিরুদ্দেশে,ছদ্মবেশে
ডাকবাক্সের জমতে থাকা চিঠিগুলোকে কাটে অবহেলায়
রোজ রোজ তারা খালি হাতে ফিরে সেই সাঁঝের অপেক্ষায় ,
                                                       আনকোরা থেকে যায়.. 

-14th Feb , 2016

Tuesday, May 17, 2016

রোজ ঘরে ফিরতে চাই
রাত বাড়ুক নিজের মত
ভালোয় ভালোয়
রোজ ঘরে ফিরতে চাই
দুশো এগারোয় দুমরে মুচরে
লোকাল ট্রেনে পাজর নিঙরে
পাখির খাঁচায় হাটু মুড়িয়ে
নিজেকে মানুষ ভেবে রোজ
ঘরে ফিরতে চাই
হয়তো হবে শেষ আজই
সব অপেক্ষার এই বাহানায়
মাটি আঁকড়ে থিতু হব ভেবে
রোজ ঘরে ফিরতে চাই
নিজের মধ্যে শিকড় খুঁজে
আবার জন্ম নেব তাই
রোজ ঘরে ফিরতে চাই

অথচ নাকি সিগন্যালটা 
বিশ্রামহীন লাল 
প্ল্যাটফর্মের সাদা ইশারা
দিয়ে গেছে চোখ ফাঁকি
সাপের পেটে বড়রাস্তা
ঠিকানা ভুলেছে কবে....
ল্যাম্পপোষ্টের ঢিমে আলোতে
সূর্য্য মাপতে মাপতে
অতঃপর ঘরে পৌঁছে..বোকা বনে দেখি
জানিনা কেনো 
অসম্পূর্ণ ...পুরো পথটাই বাকি ||

Friday, March 11, 2016

আমি রেখে যাবো ডাল ভাত দিনান্তের শেষে
ধোয়া জামা , নিকোনো উঠোন , ধূপধুনোর বাতাসে পরিপাটি করে যাবো  দিন |
রাতে ঘুম ভেঙে দেরাজের পাশে  চটি,
বাথরুমে জল | বিছানায় ফিরে বালিশের
ওমে সুরেলা স্বপ্ন, আমারই বোনা |
সই এর পেন ,টিভির রিমোট , জ্বরের ওষুধ
ঠিক নিয়মের তাকে সাজানো থাকবে,সারে সারে |
আরও কিছু জিনিস যাদের জন্য দাবী করতে
হয়নি কোনোদিন | তারাও থাকবে |

এরপর বৃষ্টির বিকেলে , বন্ধুরা যখন জীবনবীমায় ব্যস্ত
খুব চেনা একটা গন্ধ তন্নতন্ন খুঁজেও যদি না পাও,মেনে নিয়ো ,
তার হদিশ হয়তো আমারও নেই
অনেকদিন হল ,ও বাড়ি যাওয়া হয়ে ওঠেনি |